চট্টগ্রাম চেম্বারে ‘পকেট ভোট’ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা

অনলাইন ডেক্স: চট্টগ্রাম চেম্বারেটাউন অ্যাসোসিয়েশনট্রেড গ্রুপনামক দুটি শ্রেণির সদস্য বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেচট্টগ্রাম সচেতন ব্যবসায়ী সমাজনামে একটি গ্রুপ। তারা চেম্বারের প্রশাসক বরাবর চিঠি দিয়েছে, এবং চিঠিটি পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগে পাঠানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই দুটি শ্রেণি চেম্বারের নির্বাচনেপকেট ভোটহিসেবে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে একটি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে চেম্বার দখল করে রেখেছে। ২০১৩ সাল থেকে এই শ্রেণির সদস্যদের ভোটে পরিচালকদের নির্বাচিত করা হয়নি। সেই সময় বিনা ভোটেই ছয়জন পরিচালক নির্বাচিত হন, এবং ঘুরেফিরে একই গোষ্ঠী বা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের ২৪ সদস্য বিশিষ্ট পর্ষদে ১২ জন পরিচালক সাধারণ সদস্যদের ভোটে, জন সহযোগী সদস্যদের ভোটে, জন টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে এবং জন ট্রেড গ্রুপ থেকে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে, টাউন অ্যাসোসিয়েশন ট্রেড গ্রুপ থেকে ভোটের মাধ্যমে মাত্র একজন পরিচালক নির্বাচিত হতে পারে।

চট্টগ্রাম সচেতন ব্যবসায়ী সমাজের আহ্বায়ক এস এম নুরুল হক চিঠিতে বলেছেন, “সাধারণ সহযোগী সদস্যরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারেন। কিন্তু ট্রেড গ্রুপ টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে এক যুগ ধরে কারসাজির মাধ্যমে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

চেম্বারের নির্বাচনে গত এক দশকে দেখা গেছে, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ঘুরেফিরে একই গ্রুপ অ্যাসোসিয়েশন থেকে আসছেন। ২০১৩, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৩ সালের নির্বাচনে চিটাগাং ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার গ্রুপ, চট্টগ্রাম ক্ষুদ্র পাদুকা শিল্পমালিক গ্রুপ, চিটাগাং জিলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ, চিটাগাং মিল্ক ফুড ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার গ্রুপ এবং চিটাগাং টায়ার টিউব ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার গ্রুপের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন। টাউন অ্যাসোসিয়েশন থেকে রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, পটিয়া বোয়ালখালী অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেন্ড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

চেম্বারের সাবেক এক কর্মকর্তা জানালেন, ১৯০৬ সালে চেম্বারের যাত্রা শুরু হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বের জন্য এই দুটি শ্রেণি রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরে এসব শ্রেণি ব্যবহার করা হয় পছন্দের লোকদের পর্ষদে আনার জন্য।

গত সেপ্টেম্বরে চেম্বারের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন ওমর হাজ্জাজ, যিনি চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম লতিফের ছেলে। এম লতিফের বিরুদ্ধেই চট্টগ্রাম চেম্বারে পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অভিযোগ ওঠে। ওমর হাজ্জাজও ট্রেড গ্রুপ থেকে বিনা ভোটে নির্বাচিত হন।

চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “ঢাকা চেম্বারসহ দেশের অনেক চেম্বারে এই শ্রেণি দুটো নেই। চট্টগ্রাম চেম্বারে এগুলো আগেই বাদ দেওয়া উচিত ছিল।তিনি মনে করেন, ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু নির্বাচন প্রয়োজন এবং তার আগে এই ধরনের শ্রেণি বাদ দেওয়া উচিত।

এদিকে, চট্টগ্রাম চেম্বারে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসক বলেছেন, মে মাসের শেষের দিকে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *